আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে গতকাল ৪ মার্চ একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কঙ্গোর খনি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন শিশু।
প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকার খনিতে টানা ভারী বৃষ্টির পর হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। সেই সময় খনির ভেতরে এবং আশপাশে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তারা মাটির নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং আহতদের নিকটবর্তী শহর গোমার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
তবে খনি এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি ভূমিধস নয়, বরং বোমা হামলার ঘটনা এবং এতে মাত্র পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে খনিতে কর্মরত এক শ্রমিক জানিয়েছেন, তিনি উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে দুই শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তার মতে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সঠিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
রুবায়া অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোলটান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান সরবরাহ হয়। কোলটান থেকে তৈরি ট্যান্টালাম আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইনের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত হয়।
এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও খনন কার্যক্রম সংক্রান্ত সমস্যা নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষদিকে একই এলাকায় আরেকটি খনি ধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কঙ্গো সরকার অভিযোগ করেছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া অবৈধ খনন কার্যক্রম চালানোর কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুবায়ার খনিগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও তদারকি না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এছাড়া, খনি এলাকার অবকাঠামো পুরনো এবং বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির স্থিতিশীলতা কমে যাওয়ায় কাজের সময় ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে তৎপর থেকে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন। তবে নিরাপত্তার অভাবে অনেক শ্রমিক এখনও উদ্ধারপ্রতীক্ষায় রয়েছেন। কঙ্গো সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে কোলটানের গুরুত্বের কারণে রুবায়ার এই দুর্ঘটনা প্রযুক্তি সরবরাহ চেইনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা না বাড়ালে খনি অঞ্চলে পুনরায় বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।