আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কুয়েতে হামলায় নিহত ষষ্ঠ মার্কিন সেনার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে। পেন্টাগন অনুযায়ী, নিহত সেনার নাম রবার্ট এম মারজান (৫৪)। তিনি চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার–৩ পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা।
পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারজান ১ মার্চ কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা এলাকায় ঘটনাস্থলে ছিলেন। ওই হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং মৃতদের মধ্যে মারজানকে ষষ্ঠ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে মারজানের পরিচয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে আরও মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।
এখনও পেন্টাগন তার কোনো ছবি প্রকাশ করেনি। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার তদন্ত এবং মৃত সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গত রোববার পোর্ট শুয়াইবার মার্কিন কমান্ড সেন্টারে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতদের মধ্যে কেউ কারা আছেন তা এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। হামলার কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিহত সেনাদের পরিবার এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি এবং তাদের সমর্থন প্রদান করছি। আমাদের সামরিক বাহিনী এই ধরনের হামলার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিরোধে নিয়োজিত রয়েছে।”
এই হামলার প্রেক্ষিতে মার্কিন সামরিক কমান্ড কুয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পোর্ট শুয়াইবা এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, সন্ত্রাসী বা প্রতিদ্বন্দ্বী বাহিনী কোনো প্রকার হামলার সুযোগ পাবে না।
এছাড়াও, পেন্টাগনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন সেনারা মধ্যপ্রাচ্যে এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। হামলায় নিহত সেনাদের আত্মত্যাগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হচ্ছে।
এই হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া নির্ধারণে পেন্টাগন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কাজ করছে। হামলার কারণে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে সাময়িক ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পোর্ট শুয়াইবা হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মারজানের পরিচয় প্রকাশের মাধ্যমে নিহত ছয়জন সেনার তথ্যের মধ্যে পূর্ণতা এসেছে। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহত সেনাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।