ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

ইরান ভোরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইসরায়েলের দিকে


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৫৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েছে। এই হামলার জেরে লাখো ইসরায়েলি বোমা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে হামলার আওতায় জেরুজালেম, তেল আবিব এবং আশেপাশের শহরগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাধার মধ্যেও ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে। এ হামলার মাধ্যমে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিরপদে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র এবং বোমা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো যায়। ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, যার আওতায় তারা রাতভর সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ একটি জোরালো কৌশল হিসেবে নেওয়া হয়েছে যাতে ইসরায়েল এবং তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে বার্তা দেওয়া যায়। সামরিক পর্যবেক্ষকরা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের পাল্টা হামলা চলতে থাকলে মানবিক ও রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামরিক ইস্যুর কারণে তীব্র হয়েছে। সামরিক হামলার পাশাপাশি উভয় পক্ষ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করছে। বিশেষ করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে পরিস্থিতি শীতল করার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য কূটনৈতিক সংস্থা পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। তবে তৎক্ষণাৎ কোনো আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ বা সমাধান দেখা যায়নি।

এ পর্যন্ত হামলার ফলে ইসরায়েলের জনগণকে সুরক্ষার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। সরকারি ও স্থানীয় সংস্থা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। নাগরিকরা সরকারি নির্দেশনা মেনে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

হামলা চলাকালীন সময়ে জেরুজালেম, তেল আবিব এবং আশেপাশের শহরগুলোতে মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন অংশে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি এই ঘটনার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও বড় হতে পারে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর