আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরব লিগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত আবারও ইরানের প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চলমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বুধবার (৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানের এই হামলা কেবল আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম’ লঙ্ঘন নয়, বরং এটি সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির ওপর বড় আঘাত।”
ঘেইত উল্লেখ করেন, ইরানের চলমান আগ্রাসন আরব দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির এক ‘নজিরবিহীন’ শত্রুতা সৃষ্টি করেছে। এটি ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, “ইরান বর্তমানে যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কোনো আরব রাষ্ট্রই ছোট করে দেখছে না। তবে এই সংকট অন্য কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর হামলা করার জন্য কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত হতে পারে না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান আরব অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিবাদ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আরব লিগের মহাসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা প্রত্যেক দেশের দায়িত্ব। তিনি জানিয়েছেন, “যে কোনো রাষ্ট্রের ওপর বিনা কারণে সামরিক আগ্রাসন, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের ওপর, বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এমন আচরণ কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ঘেইত আরও বলেন, ইরানের হঠাৎ আগ্রাসন আরব দেশগুলোর কূটনৈতিক নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলকে পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আরব লিগের সদস্য দেশগুলো এই পরিস্থিতি ঘিরে একতাবদ্ধ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আরব লিগের মতো সংস্থাগুলোর সতর্ক বার্তার সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য মানবিক ও সামরিক প্রভাব মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে, আরব অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে।
মহাসচিবের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এই অবস্থায় আরব লিগ সব ধরনের শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে চায়।
সংক্ষেপে, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে আরব লিগ আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এতে সম্ভাব্য বিপর্যয় ও সংঘাত এড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।