গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ মণ মাংস জব্দ করেছে প্রশাসন। জব্দ করা মাংস পরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে।
গত ০৪ মার্চ বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার পৌর মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বাজারে বিক্রির জন্য রাখা বিপুল পরিমাণ মাংস জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জব্দকৃত প্রায় ১০ মণ মাংস পৌর মার্কেটের পাশেই মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
অভিযানকালে মাংস বিক্রেতা আলী আকবর গাজীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাজারে মরা গরুর মাংস বিক্রির ঘটনা ঘটছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাব এবং নিয়মিত নজরদারি না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এবং পৌরসভার তদারকি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন ক্রেতারা।
নিয়ম অনুযায়ী, বাজারে আনা গরু জবাইয়ের আগে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফিটনেস সনদ নিতে হয়। এরপর পৌরসভার তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নির্ধারিত স্থানে জবাই করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অনেক ব্যবসায়ী বাজারের বাইরে গোপনে গরু জবাই করে পরে মাংস বাজারে এনে বিক্রি করে থাকেন। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বাজারে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর ও নিষিদ্ধ খাদ্যপণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের এমন অভিযানে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তারা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।