আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন শুধুই বারুদ ও আগুনের। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার কারণে ইরান কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৩৩২ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। দুই পক্ষই একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে ক্রমেই অবনতির দিকে ঠেলছে।
তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছেন, রাতটি ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ। প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর হামলার শিকার হচ্ছে বিমানবন্দর ও আশেপাশের এলাকায় বসবাসকারীরা। আইআরজিসি ২৩তম দফার পাল্টা হামলার ঘোষণা দিলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তোড়ে তা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির একমাত্র পূর্বশর্ত হলো আত্মসমর্পণ। তিনি বলেন, “ইরান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি না তা নিয়ে আমি ভাবছি না; বরং এমন নেতৃত্ব চাই যা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।” হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, আগামী ৪–৬ সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনবে।
উপসাগরীয় দেশগুলোও জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল খাবি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ না থামলে বিশ্ব অর্থনীতি ধসে পড়বে এবং যেকোনো মুহূর্তে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। লেবাননের ওপরও ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে। বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননে গত সোমবার থেকে ২১৭ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০০ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে সহায়তার গুঞ্জন শোনা গেলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, “ট্রাম্প খুব ভালো জানেন কে কার সঙ্গে কথা বলছে।” অন্যদিকে, সিআইএ কর্তৃক কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের খবর ফাঁস হওয়ার পর থেকে উত্তর ইরাকের কুর্দি ক্যাম্পগুলোতে ইরান বৃষ্টির মতো ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “পরিস্থিতি যে কারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতে মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বাসিন্দারা নিজেদের পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত দ্রুত বন্ধ না হলে অঞ্চল জুড়ে মানবিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক ধস ঘটতে পারে।