বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি। এরই অংশ হিসেবে ৩৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির কর্ণঝোড়া সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েক নাজমুলের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গুরু চরণ দুধনই এলাকার পানবর টু ধানশাইল সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় একটি হলুদ রঙের পিকআপ ভ্যান সন্দেহজনকভাবে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা সেটিকে থামার সংকেত দেয়।
পরে পিকআপটি তল্লাশি করে এর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের সংখ্যা ছিল ৫৪৫ বোতল, যা ভারতীয় ৮টি ভিন্ন ব্যান্ডের বলে জানা গেছে। এ সময় পিকআপে থাকা আকাশ (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
ধৃত আকাশ (৩৬) শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি এলাকার সাদা মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি সদস্যরা আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক পাচারের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কর্ণঝোড়া বিওপির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান মাদক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে রবিবার দুপুরে বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক ও পিকআপ গাড়ির সিজার মূল্য আনুমানিক ২৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৫ শত টাকা।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মদের মধ্যে ভারতীয় ৮টি ব্যান্ডের মোট ৫৪৫ বোতল রয়েছে। এসব মদ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিজিবির নায়েক নাজমুল বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে আটক আকাশকে ঝিনাইগাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য পাচার রোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাঝেমধ্যেই চোরাচালানের চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির নিয়মিত অভিযানের কারণে অনেক সময় এসব অবৈধ কার্যক্রম প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।