আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরীর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী জাহাজ পাঠানোর কথা ভাবছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের আর সেগুলোর প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প লিখেছেন, “ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, আমাদের আর সেগুলোর প্রয়োজন নেই। যুদ্ধ জয়ের পর যারা এতে যোগ দেয়, তাদের প্রয়োজন আমাদের নেই।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও আক্রমণের মুখে পড়েছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অন্যতম প্রধান বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি।
তবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সংসদে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
যুক্তরাজ্যে জনমতও যুদ্ধকে নিয়ে বিভক্ত। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৩ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক এই যুদ্ধকে ন্যায্য মনে করেন না। এছাড়া শনিবার (৭ মার্চ) লন্ডনের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছে, সংঘাত বন্ধের দাবি জানিয়ে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মিত্রপক্ষে দ্বন্দ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সামরিক সমন্বয় ও কৌশলগত সম্পর্ক পরীক্ষা হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে।