আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, "এই যুদ্ধ শেষের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর মতামত নেওয়া হবে। আমি মনে করি এটি পারস্পরিক বিষয়। সঠিক সময়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।" তিনি আরও বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার সমাধান কূটনৈতিক ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে হবে।
এদিকে, চলমান যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা গ্লোবাল এনার্জি মার্কেট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিপাক্ষিক উত্তেজনা অর্থনীতির সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরের জটিলতার পরিচায়ক। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন এবং সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উর্ধ্বমুখী রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নীতি অনুসারে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সমন্বয় এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং এশীয় বাজারে আস্থা বজায় রাখার জন্য দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলাও প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও শিল্পখাতকে প্রভাবিত করবে।
এদিকে, ট্রাম্পের এ মন্তব্য কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা উস্কে দিয়েছে। তারা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিপাক্ষিক সম্পর্কের যে চাপে মার্কিন নেতৃত্ব দিচ্ছে, তার ওপর বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে।
বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা সাধারণ ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং গ্লোবাল এনার্জি মার্কেটে উল্লেখযোগ্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে।