আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের শুরুতেই করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে (Pakistan Stock Exchange) ভয়াবহ ধস নেমেছে, যার ফলে সূচক এক ধাক্কায় ৯ হাজার পয়েন্টেরও বেশি কমে যায়।
লেনদেনের শুরুতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে, যা বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে আসে। পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সূচক ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী বাজারের লেনদেন ৪৫ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখা হয়। উদ্বোধনী সেশনেই সূচকটি ৯ হাজার ৭৮০ পয়েন্ট হারিয়ে এক লাখ ৪৭ হাজার ৭১৫.৯৫ পয়েন্টে নেমে আসে। আগের দিনের তুলনায় এই পতনের হার ৬.২১ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের পুঁজিবাজারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দরপতন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, যুদ্ধাবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে ঘটেছে। বিশেষত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং গালফ অঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাবে পুঁজিবাজারে দ্রুত বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, রাজনৈতিক এবং সামরিক অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। শেয়ার বাজারের এই পতন শুধু দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্যই নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজার পুনরায় স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা এবং অব্যাহত পর্যবেক্ষণ বজায় রাখতে হবে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর এর প্রভাব প্রকট।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা এই সংকেত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পাকিস্তানের পুঁজিবাজারে দৃশ্যমান হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদিভাবে এই ধরনের অস্থিরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে স্থায়ী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা