ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

যুদ্ধ কি শেষের পথে? ৩৫ মিনিটে বারবার অবস্থান বদল ট্রাম্পের


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:২৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য কী—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বারবার পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করে নতুন করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। গতকাল প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো যখন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছে, তখন বিশ্ববাজার ও মিত্রদের আশ্বস্ত করতে সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় যে সামরিক অভিযান চলছে, সেটি শেষ করার একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা তাঁর প্রশাসনের রয়েছে। তবে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

৩৫ মিনিটের ওই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার বদলে বারবার দাবি করেন, যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত অভিযানকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনের সময় সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদক ফোনে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা কী। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ অনেকটা পরিপূর্ণ অবস্থায় আছে।’ এরপর তাকে প্রশ্ন করা হয়, এর মানে কি যুদ্ধ এই সপ্তাহেই শেষ হতে পারে? জবাবে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না দিয়ে বলেন, ‘না, তবে খুব শিগগিরই শেষ হবে। আমার মনে হয় খুব শিগগিরই।’

তবে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সাংবাদিকরা তাকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধটি ‘মাত্র শুরু হয়েছে’। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় দুটিই বলা যায়।’ এরপর তিনি আবার মন্তব্য করেন, ‘এটি একটি নতুন দেশ গড়ে তোলার শুরু।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ এর আগে তিনি ও তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টারা ইরানে নতুন করে রাষ্ট্র গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে বারবার দাবি করেছিলেন।

সিবিএসের সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনালাপের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ট্রাম্প হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে পারেন। কিন্তু তিনি সে ধরনের কোনো ঘোষণা দেননি। বরং তিনি বলেন, যুদ্ধ এখনো চলবে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে আরও এগিয়ে যাবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন এটাকে বিশাল সাফল্য বলতে পারি অথবা আমরা আরও এগোতে পারি। আমরা আরও এগোব।’

সংবাদ সম্মেলনের আগে রিপাবলিকান মিত্রদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যেও একই ধরনের ইঙ্গিত দেন তিনি। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অনেক দিক থেকে জিতেছি। কিন্তু এখনো যথেষ্ট জিততে পারিনি।’

এদিকে ট্রাম্পের এমন অস্পষ্ট বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা কৌশল নেই।

নিউইয়র্ক থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় শুমার বলেন, ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে, প্রশাসনের ভেতরেই যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু দেশের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি তাঁর আগের অবস্থানের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে তেলের নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছিলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান গোপনে একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং সেটি ব্যবহার করে মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলা চালিয়েছে।

ওই হামলায় ১৬৮ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই শিশু। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য কোনো দায় স্বীকার করবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক দেশই টমাহক ব্যবহার করে এবং ইরানের কাছেও কিছু টমাহক থাকতে পারে।’

এই বক্তব্যে উপস্থিত অনেক সাংবাদিক বিস্ময় প্রকাশ করেন। এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, কেন তাঁর প্রশাসনের অন্য কেউ এমন দাবি করছে না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত নন এবং এটি এখনো তদন্তাধীন।

  আকশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর