আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তাদের দেশ প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপাতত কোনো আলোচনা বা কূটনৈতিক সমাধানের পথ নেই।
তিনি আরও জানান, ইরান প্রয়োজন হলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা তাদের এজেন্ডায় নেই। আরাগচির মন্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরান কোনো পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী হামলার তীব্রতা ও সময়সীমা নির্ধারণ করবে।
ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চাপ তৈরি করতে তাদের নীতি কঠোর। দেশটি সামরিকভাবে প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক চাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আরাগচি জানান, ইরান এই যুদ্ধের সময়সীমা শুধুমাত্র তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে’। তবে আরাগচি দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার তাগিদ অনুভব করছে না এবং নিজেদের কৌশল অনুযায়ী হামলা চালিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জটিলতা আরও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ক্রমাগত হামলা চালাতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তারা আরও বলছেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক আগ্রাসন সীমিত করা। যুদ্ধের ফলাফল এবং সময়সীমা শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক চাপ, কৌশলগত লক্ষ্য এবং ক্ষেত্রের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা শুধু সামরিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়াও আরাগচি স্পষ্টভাবে জানান, ইরান কোনো পক্ষের সঙ্গে আপাতত সরাসরি আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রভাবিত করতে এবং যুদ্ধের সময়সীমা ও লক্ষ্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে ইরান প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করবে।
ইরানের এই ঘোষণা যুদ্ধের স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সমাধানকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি হামলা ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাবিত করতে পারে।
সর্বশেষ আরাগচির বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, ইরান প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় এবং যে কোনো মাত্রায় প্রতিরোধমূলক ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে পারে।
আকশজমিন / আরআর