ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

ইরানের ৫ হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:১০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, গত ১০ দিনে ইরানের ৫ হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সেন্টকোমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ৫০টিরও বেশি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ধ্বংস হয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা, সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্র এবং সামরিক কমান্ডকেন্দ্র।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলেছিল। কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান অভিযান অব্যাহত থাকে। এর পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি কাঠামো এবং কয়েকটি জ্বালানি তেলের ডিপো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই হামলার পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশে – সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। সেখানেও ক্ষয়ক্ষতি ও উত্তেজনা বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের এই পরিসংখ্যান ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু ইরানের প্রতিক্রিয়াও শক্তিশালী, যা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ইরানের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানাচ্ছে, সামরিক অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা ও লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন, সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা না হলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিটি হামলার প্রতিক্রিয়ায় নতুন সঙ্কট তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

আকশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর