অনলাইন রিপোর্টার
টানা দুই দফা কমার পর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে দেশের ক্রেতারা এবং ব্যবসায়ীরা নতুন দাম অনুযায়ী স্বর্ণ কেনাবেচা করবেন।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।
গত সোমবার (৯ মার্চ) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেই সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা, যার ফলে দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, আর ১৪ দফা দাম কমানো হয়েছে। এ ধরনের ওঠানামা মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের স্বর্ণের মূল্যের পরিবর্তন, স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বর্ণের বাজারে দাম বাড়ার পেছনে বৈশ্বিক স্বর্ণ বাজারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বড় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা এবং স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের ক্রয় ও বিক্রয় চাহিদার প্রভাবও রয়েছে।
স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দামের এই ওঠানামা সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কতার বার্তা দেয়। বিশেষ করে বিবাহ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করা গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা পরামর্শ দেন, ক্রেতাদের বাজার পরিস্থিতি লক্ষ্য রেখে সময়োপযোগী ক্রয়-বিক্রয় করা উচিত।
বাজুসের নতুন দাম প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর স্বর্ণের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে কিছু সময়ের জন্য দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচায় সামান্য ধীরগতি লক্ষ্য করা যেতে পারে।
স্বর্ণের বাজারে এ ধরনের ওঠানামা ক্রেতাদের জন্য সতর্কতার সংকেত হলেও অনেক গ্রাহক এখনও ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে মূল্যায়ন করে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদে মূলধন সংরক্ষণের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।
বাজুসের মাধ্যমে এই নতুন দাম ঘোষণার পরই দেশের বাজারে স্বর্ণের কেনাবেচা পুনরায় শুরু হয়েছে। ক্রেতারা এখন নতুন দাম অনুযায়ী তাদের ক্রয়-বিক্রয় পরিকল্পনা করতে পারছেন।