অনলাইন ডেস্ক:
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলে সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের অভিযান মূলত ইরানি জনগণকে বর্তমান সরকারের অত্যাচার থেকে মুক্ত করার জন্য। তবে শেষ সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তাদের উপর নির্ভর করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, "এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা তাদের মূল শক্তি ভেঙে দিয়েছি। আমাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।"
গুঞ্জনের মধ্যেই নেতানিয়াহুর নতুন ছবি প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। টাইমস অব ইসরায়েল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই ছবি প্রকাশ করেছে, যা তারা দাবি করেছে সোমবার (৯ মার্চ) তোলা হয়েছে।
এর আগে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি হিব্রু ভার্সনে এক প্রতিবেদনে গুজবের কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত কয়েকটি মূল ইঙ্গিত হলো:
১. নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে প্রায় তিন দিন আগে। ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবধান আরও বেশি, প্রায় চার দিন। এরপর থেকে তার নামে যেসব বিবৃতি এসেছে, সেগুলো কেবল লিখিত আকারে।
২. এর আগে প্রতিদিন অন্তত একটি, কখনো কখনো তিনটি পর্যন্ত ভিডিও প্রকাশ হতো। গত তিন দিনে একটিও ভিডিও না আসায় জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
৩. হিব্রু সূত্রে বলা হয়েছে, ৮ মার্চ থেকে নেতানিয়াহুর বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
৪. মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল হয়েছে। এটি ১০ মার্চের জন্য নির্ধারিত ছিল। অনেকের ধারণা, নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণে সফর বাতিল করা হয়েছে।
৫. ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর কথিত টেলিফোন আলাপের বিবরণে কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। শুধু লিখিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাধারণত সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
এই সব ঘটনার সমন্বয়ে হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা খণ্ডন প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর শারীরিক বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গুজব ছড়ানো হতে পারে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন যে এই ধরনের গুজব পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনীও তাদের অভিযান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর