অনলাইন রিপোর্টার
সাংবাদিক আনিস আলমগীর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মামলায় জামিন পেয়েছেন। আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং এ সংক্রান্ত কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানা গেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আসামিপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এই আদেশের মাধ্যমে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায় জামিন নিশ্চিত হলো। তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি জানান, জামিন পাওয়ার কারণে তার কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই।
এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি দুদক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। পরে ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান আদালতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ২৮ জানুয়ারি তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, যা মিলিয়ে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা, এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় মোট অর্জিত সম্পদ ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকা বেশি, যা মোট সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং এটি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে, উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা সম্পর্কেও গত ৫ মার্চ আনিস আলমগীর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
মোটের ওপর বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে জামিন পাওয়ার ফলে তার কারামুক্তি অবাধে সম্ভব হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত তার জন্য সাময়িক মুক্তি নিশ্চিত করলেও মামলা চলমান থাকবে এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
দুদকের অভিযোগ অনুসারে, সাংবাদিকতার পাশাপাশি ব্যবসা ও অন্যান্য আয় থেকে প্রাপ্ত সম্পদের তুলনায় তার আয়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়েছে, যা আদালতের নজরে এসেছে। তবে জামিনের মাধ্যমে তার বর্তমান অবস্থায় কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি, ফলে তিনি নিয়মিত জীবনযাপন ও আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকতা ও আইনগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি প্রকাশ করেছে যে, প্রমাণিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জামিনের সুযোগ থাকায় আসামি কারামুক্ত থাকতে পারে।