সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থিত জেলার কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা কেটে প্রতিমার স্বর্ণালংকার, রুপা ও দানবাক্সের নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৮ লাখ টাকার সম্পদ চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) মধ্যরাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, দুর্বৃত্তরা মন্দিরের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করে একাধিক মন্দির কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে প্রতিমার স্বর্ণালংকার এবং দানবাক্সের নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, চোরেরা মায়ের বাড়ি মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির ও জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিমার শরীরে থাকা বিভিন্ন স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে যায় এবং দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ নিয়ে যায়।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’, আট আনা ওজনের একটি চেন, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি এবং প্রায় পাঁচ ভরি রুপা। এছাড়া দানবাক্স থেকে নগদ সাত হাজার টাকা এবং আরও কিছু মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে চোরেরা।
ঘটনার পর স্থানীয় মন্দির কমিটির সদস্য ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মন্দিরে জড়ো হন। তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার বলেন, “দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বারবার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাই।”
তিনি আরও বলেন, মন্দিরে নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি থাকলে এমন ঘটনা অনেকটাই কমে আসতে পারে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, চুরির খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা জানান, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোরদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।