ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে একটি আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলার সময় ভবনের ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন।
স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, লক্ষ্যবস্তু করা ভবনটি ছিল একটি সাধারণ আবাসিক স্থাপনা, যেখানে একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল। হামলার সময় সেখানে থাকা ছয়জনই একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একটি ছয় মাস বয়সী শিশুও রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
হামলার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছে কি না তা নিশ্চিত হতে এখনও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার তীব্রতায় আশপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এদিকে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের হামলা নিরীহ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব জানতে আরও সময় লাগবে। আহত কেউ থাকলে তাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করেছেন এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: ডন
আকাশজমিন / আরআর