ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

আজ বিশ্ব পাই দিবস আজ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৪ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

আজ ১৪ মার্চ, বিশ্ব পাই (π) দিবস। এই দিন উদযাপন করা হয় গাণিতিক ধ্রুবক পাই (π)-এর সম্মানে। পাইয়ের মান প্রায় ৩.১৪, এবং তাই প্রতি বছর ১৪ মার্চ বিশ্বব্যাপী গণিত ও বিজ্ঞানপ্রেমীরা পাই দিবস উদযাপন করে থাকেন।

পাই গণিতে বহুল ব্যবহৃত একটি ধ্রুবক এবং এর রহস্য আজও বিজ্ঞানীদের মুগ্ধ করে রাখে। পাই-এর মান ৩.১৪১৫৯২৬৫৩৫৮৯৭৯… অব্যাহত থাকে এবং এর শেষ কোথায়, তা কেউ বলতে পারে না। এই সংখ্যা অদ্ভুত সুন্দর ও অমীমাংসিত হওয়ায় এ নিয়ে গবেষণা আজও চলমান।

পাই দিবসের ধারণা ১৯৮৮ সালে এসেছে। মার্চ মাসের ১৪ তারিখকে ৩/১৪ আকারে প্রকাশ করা যায়। ২০১৯ সালে ইউনেস্কো এই দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সারা বিশ্বের গণিতপ্রেমীরা তা উদযাপন করে।

পাই-এর প্রথম নির্ভুল হিসাব করা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ সালে। বিখ্যাত গণিতবিদ আর্কিমিডিস এই সংখ্যা গণনা করেন। তিনি পিথাগোরাসের উপপাদ্য ব্যবহার করে পাই-এর মানকে ৩.১৪২৮৫৭ এবং ৩.১৪০৮৪৫-এর মধ্যে নির্ধারণ করেছিলেন। ১৭০৬ সালে গণিতবিদ উইলিয়াম জোনস বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাত বোঝাতে গ্রিক অক্ষর π (পাই) ব্যবহার করেন। সেই সময় তিনি সিনোপসিস পালমারিওরাম ম্যাথেসিওস নামের থিসিসে এই চিহ্ন ব্যবহার করেছিলেন।

পাই একটি বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাত নির্দেশ করে। গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পাই-এর ব্যবহার বহুমাত্রিক। পাই-এর মান পুনরাবৃত্তিহীন এবং অসীম, তাই কয়েক শতাব্দী ধরে এর রহস্য বিজ্ঞানীদের মুগ্ধ করে আসছে।

প্রাচীন সভ্যতায় যেমন ব্যাবিলন ও মিসরে, পাইকে বিভিন্ন মাত্রায় ব্যবহার করা হতো। তাদের গণিতবিদরা বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের হিসাব নির্ভুলভাবে বের করতে পাই ব্যবহার করতেন। আধুনিক যুগেও পাই-এর নির্ভুল মান নির্ধারণের চেষ্টা চলমান। সুপারকম্পিউটার ও গণিতজ্ঞরা পাই-এর কোটি কোটি দশমিক পর্যন্ত মান বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পাই-এর ব্যবহার শুধু গাণিতিক হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি পদার্থবিদ্যা, ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বৃত্তাকার বস্তু, সেতু নির্মাণ, মহাকাশ গবেষণা এবং কোডিং অ্যালগরিদমে পাই-এর ব্যবহার দেখা যায়।

পাই দিবসের দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং গণিতপ্রেমীরা পাই সংক্রান্ত প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, এবং মজাদার কার্যক্রম আয়োজন করে। অনেক জায়গায় পাই পিঠা বা পাই আকৃতির খাবারের আয়োজনও করা হয়।

বিশ্ব পাই দিবস আমাদের গণিত ও বিজ্ঞান সম্পর্কে কৌতূহল বাড়ায়। এটি শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং গবেষণা ও শেখার অনুপ্রেরণার প্রতীক। প্রতিটি পাই দিবস শিক্ষার্থীদের গণিতের রহস্য অনুধাবনে উৎসাহ যোগায় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবনের পথে পরিচালিত করে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর