ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি: পদ্মা অয়েলের তদন্ত শুরু


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৫২ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল তদন্তে নেমেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে তদন্তকারীরা কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম। তারা ডিপোর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং তেলবাহী গাড়ির চলাচল সম্পর্কিত তথ্য মিলিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের ফুটেজও যাচাই করেন। এছাড়া ডিপোতে থাকা তেলও পরিমাপ করেন তারা।

তদন্তের মূল ফোকাস নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর গতিপথ এবং কুর্মিটোলা ডিপোতে প্রবেশ সংক্রান্ত তথ্য। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো কুর্মিটোলা পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে তেল পৌঁছেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম এসিএ ঢাকা পোস্টকে বলেন, "নিউজ প্রকাশের পর সকাল থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এটি এখনো চলমান। আমরা সবকিছু মিলিয়ে যাচাই করছি।"

জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে কমমূল্যের কারণে দুর্বৃত্তরা এটিকে অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। খোঁজে জানা গেছে, ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে যাওয়া অন্তত চারটি গাড়ি কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। গাড়ি নম্বরগুলো হলো, ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে তেল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে।

পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হক-এর নেতৃত্বে পুরনো একটি সিন্ডিকেট এ ধরনের চুরি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাইদুল হককে গত বছরের ২০ জানুয়ারি সতর্ক করা হয়েছিল। তবে তিনি থামেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিক চুরির অভিযোগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ, পদ্মা অয়েলের তদন্ত দল ৮ মার্চ কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে। তখন তেল চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই চেষ্টার মাধ্যমে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করে পদ্মা অয়েল এবং বিপিসি ভবিষ্যতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, যাতে বিমানবন্দর ও এভিয়েশন ডিপোর জ্বালানি সরবরাহে সুনির্দিষ্টতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর