ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

অবৈধ মাটি পরিবহনে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়ক মরণফাঁদ


অবৈধ মাটি পরিবহনে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়ক মরণফাঁদ

  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৩৫ পিএম

ইজারা না থাকলেও দিনে-রাতে সমান তালে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন এবং পরিবহন করার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়ক এখন পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি পরিবহনের সময় সড়কের ওপর মাটি পড়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পিচ্ছিল ও কাদাময় হয়ে যায়, ফলে সড়কটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত অবস্থায় মাটি বহন করায় চলন্ত যানবাহন থেকে মাটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে পড়ে জমে থাকে। এতে সড়কের ওপর মাটির স্তর তৈরি হয়ে যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এভাবে নিয়মিত মাটি পরিবহনের ফলে সড়কের পিচ ও গঠন দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টিপাত হলেই পুরো সড়ক কাদাময় হয়ে পড়ে, যা চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এতে করে প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

তাদের অভিযোগ, মাটি পরিবহনের সময় ট্রাক বা ট্রাক্টরগুলো কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চলাচল করছে। অনেক সময় অতিরিক্ত মাটি বোঝাই করে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো হয়, যার ফলে মাটি সড়কের ওপর পড়ে থাকে এবং রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়।

বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা এবং ছোট যানবাহনের চালকদের জন্য এ সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ্ছিল কাদা জমে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও পরিবহন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব কার্যক্রম দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা মাটি দ্রুত অপসারণ না করায় সমস্যাটি আরও বাড়ছে। ফলে বৃষ্টি হলেই সড়কের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী বলেন, অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করা, পরিবহনের সময় প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মেনে চলা এবং সড়কে পড়ে থাকা মাটি দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে করে সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে আসবে।

আকাশজমিন / আরআর   


এ সম্পর্কিত আরো খবর