ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণকে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর, আবুধাবির খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরাহ বন্দরের আশপাশের এলাকা থেকে দ্রুত সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব বন্দর এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে এবং তারা বেসামরিক স্থাপনার মধ্যে অবস্থান করছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বন্দরগুলো এখন ইরানের হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক অবকাঠামোর মধ্যে অবস্থান নেওয়ায় ওই এলাকাগুলোকে সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হতে পারে। তাই বন্দর এলাকার আশপাশে বসবাসকারী বা কর্মরত ব্যক্তিদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জেবেল আলী বন্দর, খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরাহ বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয় এবং হাজার হাজার মানুষ সেখানে কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে ইরানের এমন সতর্কবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
আকাশজমিন / আরআর