ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রী মিকি জোহার। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
সোমবার ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম রেডিও ১০৩ এফএম ব্রডকাস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে মিকি জোহার বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই অনুধাবন করতে পারছি যে সামনের দিনগুলোতে উত্তেজনা আরও বাড়বে। তাই ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও ব্যাপক আকারে প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে যে গতিপ্রকৃতি আমরা দেখছি, তাতে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে আরও বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে এই যুদ্ধ চলবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
জানা গেছে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলও ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এর জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে। ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় দেশটি।
সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলার কারণে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আপাতত সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।