বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় হামলা
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ-এর কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিনজোন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বাগদাদ লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে ড্রোন ও রকেট হামলায় কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দূতাবাসটিকে লক্ষ্য করে এটিই সবচেয়ে বড় ও তীব্র হামলা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে অন্তত পাঁচটি ড্রোন মার্কিন দূতাবাসের দিকে ছোড়া হয়। একই সময়ে কয়েকটি রকেটও নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে। হামলার পর গ্রিনজোন এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত সেখানে অবস্থান নেয়।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় আকারের হামলা। ড্রোন ও রকেট একসঙ্গে ব্যবহার করা হওয়ায় হামলার তীব্রতা অনেক বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এতে গ্রিনজোন এলাকার আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ দূরের এলাকাতেও শোনা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার পর মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলি আকাশের দিকে উঠছে। কিছু ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি ও জরুরি সেবা কর্মীদের ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে দেখা গেছে।
তবে হামলায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কেউ হতাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরাকের গ্রিনজোন এলাকা অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি কূটনৈতিক ও সরকারি অঞ্চল। এখানে বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস, সরকারি ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
তবুও মাঝে মধ্যেই এই এলাকাকে লক্ষ্য করে রকেট বা ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, মঙ্গলবারের হামলা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বড় আকারের ছিল।
এদিকে ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলাকারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
সূত্র: রয়টার্স