দোহা পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন, তারা যেন দ্রুত নিরাপদ স্থান খুঁজে যান। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ জনগণকে ঘরের ভেতরেই থাকার জন্য অনুরোধ করেছে।
এই সতর্কতা পরিপ্রেক্ষিতে দোহার অনেক শপিং মল, স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং ট্রাফিক রুটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও সিভিল সুরক্ষা বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এবং সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা প্যাকেজ দেখতে পেলে দ্রুত তা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় নাগরিক এবং পর্যটকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়াচ্ছেন। কেউ কেউ তাদের অবস্থান সম্পর্কে বন্ধুবান্ধবকে জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে থাকার ছবি শেয়ার করছেন। দোহা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের হওয়া এ মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ।
দোহার প্রশাসনের পরামর্শ, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে গাড়ি বা পায়ে চলাচল সীমিত রাখা উচিত। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ততম এলাকা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ জরুরি পরিষেবা, হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত রাখছে যাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায়।
নাগরিকদের আরও সতর্ক করার জন্য স্থানীয় রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে বারবার জননিরাপত্তা বার্তা সম্প্রচার করা হচ্ছে। মানুষ যেন ভিড় না জমায় এবং প্যানিক না করে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ বা এর পেছনের কোনো দায় কার উপর, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকল সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রশাসন জনগণকে ঘরে থাকা, নিরাপদ স্থান বেছে নেওয়া এবং পুলিশ বা সিভিল সুরক্ষা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনা কাতারে জননিরাপত্তা ও শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। সাধারণ নাগরিকরা সরকারী নির্দেশনা মেনে নিরাপদে অবস্থান করছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত অবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।