ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত দিনদিন তীব্র আকার ধারণ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি বা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট রয়েছে, সেখানে হামলা চালাচ্ছে। এই সংঘাত বর্তমানে ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২০০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে রয়েছে দগ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণজনিত আঘাত এবং মস্তিষ্কে ক্ষতি। তবে ১৮০ জন সেনাসদস্য ইতোমধ্যেই কাজে ফিরেছেন।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার মধ্যে অনেকের কারণ ইরানের ‘একমুখী’ ড্রোন হামলা। যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের ড্রোন হামলা সবচেয়ে বেশি হতাহতের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং এর প্রভাব পাশের আরব দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান এই সংঘাতের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইরানের এই পাল্টা হামলা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইসরায়েলের ওপর। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনা ঘাঁটিগুলোকে আক্রমণ করছে। এতে শুধু সামরিক কর্মীই নয়, স্থানীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ নাগরিকদের ওপরও প্রভাব পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হামলার জবাবে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালাচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রতিটি পক্ষের কৌশল নির্ধারণ করছে।
তাদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি স্থানীয় জনগণ এবং সামরিক কর্মীদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।