যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, ইসরায়েল কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইসরায়েল কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড স্যাক্স সাম্প্রতিক সময়ে সতর্ক করেছেন, যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। তাঁর মতে, যদি যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলে, তাহলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ে এবং বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। স্যাক্স আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে উদ্যোগ নিতে হবে।
ডেভিড স্যাক্স সম্প্রতি তার ‘অল-ইন’ পডকাস্টে বলেন, “যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমাদের এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।
ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের বলেন, স্যাক্সের এই সতর্কতা সত্ত্বেও, তার দৃঢ় বিশ্বাস, ইসরায়েল কখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, “ইসরায়েল সবসময় শান্তিপূর্ণ এবং যুক্তিসঙ্গত পথ বেছে নেবে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসরায়েলের অবস্থানকে শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা। ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি হলে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক এবং সামরিক উপস্থিতি চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে সীমিত রাখার চেষ্টা করছে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করছে।
ডেভিড স্যাক্সের সতর্কবার্তা অনুসারে, দীর্ঘকালীন যুদ্ধ হলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ পড়বে, যা পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প এই আশঙ্কাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, ইসরায়েল কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেন্দ্র করে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, যা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি করে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে।
ট্রাম্পের দৃঢ় বিশ্বাস এবং সতর্কতার মধ্যে একটি সমন্বয় প্রতীয়মান হচ্ছে—যেখানে তিনি ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে প্রায় অসম্ভব হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে স্যাটসের সতর্কতা যুদ্ধের দীর্ঘায়িত প্রভাব নিয়ে সতর্ক করছে।
এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর ধরে রেখেছে।