আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো কর্মী আহত হননি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার ফলে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামলার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের প্রধান আলেকসেই লিখাচেভ বিবৃতিতে বলেছেন, এই হামলার ‘কঠোর নিন্দা’ জানাচ্ছে রোসাটম। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশের উত্তেজনা কমানোর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়া জোর দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে কোনো উত্তেজনা চলা উচিত নয়। তিনি আরও বলেছেন, এই ধরনের হামলা কেবল অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে এবং তা আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির পরিপন্থী।
আইএইএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত। হামলার সময় সেখানে কাজ করা সকল কর্মী নিরাপদ ছিলেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত হয়নি।
বিশ্বজুড়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা কোনোভাবে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে আরও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রাশিয়া ইতোমধ্যেই আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কেন্দ্র। এই স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামলার পর রাশিয়া এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সতর্কতার সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এছাড়া ইরান জানিয়েছে, তারা হামলার দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং রাশিয়া উভয়ই হামলার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য বড় হুমকি হতে পারে। রাশিয়ার এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং আইএইএ’র সতর্কবার্তা আগামী সময়ে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক নজরদারির গুরুত্ব আরও বাড়াবে।
সূত্র: স্ট্রেইটস টাইমস।
আকাশজমিন / আরআর