ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার একদিন পরই ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে লক্ষ্য করে তেহরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনায় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন সতর্কতা সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইসমাইল খতিব হামলায় নিহত হয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সংঘটিত হওয়ায় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ব্যাপক সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
লারিজানির মৃত্যুর পর ইরানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। তার শূন্যস্থান পূরণ এবং নতুন নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এমন হামলা আন্তর্জাতিক রাজনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের হামলার ফলে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও প্রভাবিত হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসমাইল খতিব হামলার পর এখনো জীবিত থাকলে তিনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে এই তথ্য এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
ইরানের নিরাপত্তা সংস্থা ইতোমধ্যেই তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, সরকারি ভবন এবং কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানি হত্যার পর এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ইরানের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র হিসেবে সিএনএন এবং আল–জাজিরার প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। এই হামলার ফলে তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক স্তরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং আগামী দিনের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের চিত্রও প্রভাবিত হতে পারে।