ইরানের নতুন করে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল আবিবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার চালানো এই হামলার ফলে শহরের একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় মধ্য ইসরায়েল ও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী।
একই দিনে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেল আবিব ছাড়াও জেরুজালেম এবং উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে এই হামলার প্রভাব পড়েছে। জেরুজালেমে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কয়েকটি ভবনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখানেও হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে এই ধরনের সমন্বিত হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে একাধিক শহরে একযোগে হামলা চালানোর মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার একটি শক্ত বার্তা দিতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের হামাদান প্রদেশের সানান্দাজ বিমানবন্দরে পাল্টা হামলা চালিয়ে একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আকাশজমিন / আরআর