আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। জবাবে তৎক্ষণাৎ ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। তেহরান এরপর থেকে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
ইরানের হামলার ফলে বেসামরিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক প্রভাবিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ইরানের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিকূল প্রভাব ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে বৈঠক হতে পারে। তুরস্ক ও মিসরও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমাতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান হরমুজ প্রণালী না খুললে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। তবে সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে হবে না। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তা ইতিবাচক।
তেহরান অবশ্য ট্রাম্পের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনও কোনও সরাসরি আলোচনা হয়নি। তবে ইউরোপীয় সূত্র জানিয়েছে, পরোক্ষভাবে বার্তা বিনিময় হয়েছে। মিসর, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে যোগাযোগের ভূমিকা পালন করছে।
রয়টার্স ও ইসরায়েলি সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠক হতে পারে। মার্কিন প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। ইরানি প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান গত দু’দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা চালাচালি করছে। তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’ জানিয়েছে, পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। গত রবিবার পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনির ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরের দিন পাকিস্তানির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে বৈঠক বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সরাসরি বৈঠকটি কার্যকর হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নজর এখন পুরো পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্রীভূত।