আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি অপরিশোধিত তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের ফলে আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং বিস্ফোরণের কম্পনে আশপাশের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণটি ঘটেছে পোর্ট আর্থারের ভ্যালেরো এনার্জি করপোরেশনের শোধনাগারে। ঘটনার পর শোধনাগার থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন কালো ধোঁয়া স্থানীয়দের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহর কর্তৃপক্ষ পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ জারি করেছে।
ভ্যালেরো শোধনাগারটি টেক্সাস উপসাগরীয় উপকূল ও টেক্সাস-লুইজিয়ানা সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এখানে প্রায় ৭৭০ জন কর্মী কাজ করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল পেট্রোল, ডিজেল ও জেট জ্বালানি উৎপাদন হয়। তবে এই দুর্ঘটনায় এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভ্যালেরো এনার্জি করপোরেশনের এক প্রতিনিধি নিউইয়র্ক পোস্ট-কে জানিয়েছেন, শোধনাগারের সব কর্মীর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং তারা নিরাপদে রয়েছেন। তিনি জানান, কর্মীরা নিরাপদে অবস্থান করছে এবং ত্রুটি নির্ণয় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরে পুরো এলাকায় পচা ডিমের মতো দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা সাধারণত সালফারের গন্ধ হিসেবে পরিচিত। অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের কম্পনের কারণে তাদের বাড়িঘর ও যানবাহন কেঁপে ওঠে।
জেফারসন কাউন্টির শেরিফ জেনা স্টিফেনস বলেছেন, শোধনাগারের একটি হিটিং ইউনিটে ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
বিস্ফোরণের কম্পন ও কালো ধোঁয়া দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত। এক নারী ফেসবুকে লিখেছেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সরিয়ে নেওয়া উচিত।” অন্যরা জানিয়েছে, তারা দারুণভাবে ভয় পেয়েছেন এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আশা করছেন।
স্থানীয় প্রশাসন এবং শোধনাগারের কর্মকর্তারা মিলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রুটি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণে শহরের বায়ু মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ভ্যালেরো শোধনাগারে উৎপাদন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। শোধনাগারের নিরাপত্তা ও উৎপাদন পুনরায় সচল করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, তেল শোধনাগারের বিস্ফোরণ শুধুমাত্র স্থানীয় নিরাপত্তা নয়, বরং সামগ্রিক তেলের সরবরাহ ও বাজারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।