আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ পেয়েছে, তবে সরাসরি নয়; বরং কয়েকটি বন্ধুরাষ্ট্রের মাধ্যমে তেহরান এ বার্তা পেয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, এ বার্তার জবাবে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো হামলার পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতির শর্তে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বাগাই স্পষ্ট করেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা চললে এর ফলাফল ভয়ঙ্কর হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা আলোচনা হয়নি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ‘মিথ্যা খবর’। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি এবং এই ধরনের খবর মূলত আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চোরাবালিতে আটকে থাকার প্রচেষ্টা হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প গতকাল সোমবার ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জোরালো আলোচনা’ হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনা চালাচ্ছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি সমঝোতা না হয় তবে ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরান আগ্রাসনকারীদের পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে অটল থাকবেন।
ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, যুদ্ধবিরতির আলোচনায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানা হবে না এবং যে কোনো হুমকি বা চাপ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে প্রেরিত বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে, তেহরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের আপস হবে না।
এই ঘটনাগুলি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ও ইরানের কঠোর অবস্থান বিশ্ববাজারে তেলের দাম, সামরিক সমীকরণ এবং পারমাণবিক আলোচনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।