ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

সাতক্ষীরা মা ও শিশু কেন্দ্রে

ঈদের দিনেও থামেনি সেবা, সাতক্ষীরায় জন্ম নিল নবজাতক


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:২৯ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: চারিদিকে ঈদের ছুটির আমেজ, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত মানুষজন। তবে এই আনন্দঘন সময়েও দায়িত্ব থেকে এক মুহূর্তের জন্য বিচ্যুত হননি সাতক্ষীরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক ও সেবিকারা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতেও এখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলেছে স্বাস্থ্যসেবা, নিশ্চিত করা হয়েছে নিরাপদ মাতৃত্ব।

শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে সদর উপজেলার আগরদাঁড়ী ইউনিয়নের খাদিজা খাতুন ও রেজওয়ান কবির দম্পতির জীবনে আসে এক অনন্য মুহূর্ত। সাতক্ষীরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেই জন্ম নেয় তাদের ফুটফুটে পুত্র সন্তান। ঈদের আনন্দের সঙ্গে নতুন প্রাণের আগমণ মিলিয়ে তাদের পরিবারে নেমে আসে দ্বিগুণ সুখের আবহ।

চিকিৎসকরা জানান, স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ায় মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন। এতে পরিবারটি কেন্দ্রের চিকিৎসক ও সেবিকাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ঈদের দিনে এমন একটি সুখবর তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক রওশন আরা জামানের সরাসরি নির্দেশনায় ঈদের ছুটিতেও কেন্দ্রটিতে আউটডোর সেবা চালু রাখা হয়। ফলে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গর্ভবতী নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরামর্শ ও সহায়তা পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

কেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাঃ পলাশ দত্ত বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল, ছুটির দিনেও যেন কোনো মা সেবা থেকে বঞ্চিত না হন। আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১১টি স্বাভাবিক প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ঈদের দিনেও সেবা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের ধন্য মনে করছেন। তাদের এই আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে ঈদের দিনেও নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

ডা. পলাশ দত্ত বলেন, “ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি সত্ত্বেও আমরা মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ রাখিনি। বরং নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে গেছি। স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে নতুন প্রাণের আগমণ ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি এই সেবা কেন্দ্রটি বর্তমানে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ মাতৃত্বের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। এখানকার চিকিৎসক ও সেবিকাদের আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধের কারণে অনেক মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে পারছেন।

ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তেও মানবসেবার এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাতক্ষীরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর