ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবে ইসরায়েলে উত্তেজনা বাড়ছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলে চার দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহত্তর তেল আবিব এলাকায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও নিশ্চিত করেছে, তেল আবিবের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। হামলার সময় হাদেরা এলাকায় একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশন জানিয়েছে, কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত মঙ্গলবারও তেল আবিব শহর লক্ষ্য করে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। ওই হামলায় কয়েকজন আহত হন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই আচরণ আঞ্চলিক উত্তেজনার মাত্রা বৃদ্ধি করছে এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
ইসরায়েলি সেনারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর। শহরে হামলা প্রতিরোধে ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বিগ্ন। তারা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের নতুন মাত্রা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, তেল আবিব ও আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা ইরানের সামরিক কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে তারা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পরীক্ষা করছে এবং আঞ্চলিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আগামি দিনগুলোতে হামলার সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি ও অন্যান্য হুমকির মোকাবেলায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য রাখছেন, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কী ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে তেল আবিবে নিরাপত্তার উদ্বেগ বাড়ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জনগণের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমাধান এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের নজরদারির কেন্দ্রে রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর