ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির আশা

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রায় দুই লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে তিনটি জাহাজ। তিনটি জাহাজ মিলিয়ে মোট এলএনজি আসছে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন, যা দেশের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহনকারী ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকারটি ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। জাহাজটি এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে বন্দরে নোঙর করার অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি জাহাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী বুধবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিনটি জাহাজের এলএনজি দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে এই আমদানি সহায়ক হবে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং সরবরাহে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই এলএনজি আমদানি দেশের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, বর্তমান সূচি অনুযায়ী ট্যাংকার দুটি সময়মতো পৌঁছাবে বলেই আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছালে দ্রুত আনলোডিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়ার পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এলএনজি খালাস করা হবে। এরপর তা গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে এই ধরনের বড় আকারের আমদানি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ভবিষ্যতেও এলএনজি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, এই এলএনজি সরবরাহ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে শিল্প উৎপাদনও বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে থাকা এই তিনটি জাহাজ দেশের জ্বালানি খাতে স্বস্তি এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও এই সরবরাহ নিশ্চিত করা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর