ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির আশা

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রায় দুই লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে তিনটি জাহাজ। তিনটি জাহাজ মিলিয়ে মোট এলএনজি আসছে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন, যা দেশের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহনকারী ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকারটি ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। জাহাজটি এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে বন্দরে নোঙর করার অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি জাহাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী বুধবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিনটি জাহাজের এলএনজি দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে এই আমদানি সহায়ক হবে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং সরবরাহে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই এলএনজি আমদানি দেশের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, বর্তমান সূচি অনুযায়ী ট্যাংকার দুটি সময়মতো পৌঁছাবে বলেই আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছালে দ্রুত আনলোডিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়ার পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এলএনজি খালাস করা হবে। এরপর তা গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে এই ধরনের বড় আকারের আমদানি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ভবিষ্যতেও এলএনজি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, এই এলএনজি সরবরাহ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে শিল্প উৎপাদনও বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে থাকা এই তিনটি জাহাজ দেশের জ্বালানি খাতে স্বস্তি এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও এই সরবরাহ নিশ্চিত করা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর