ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

এলাকাজুড়ে শোক

ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫ জনের বাড়ি একই গ্রামে


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৩২ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মরদেহ শনিবার সকালে গ্রামের পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। কবর খননের কাজ চলছে এবং বাদ যোহর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হবে।

গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ধলাটেংগর এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—নিজপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা রেসা (২৪), প্রতিবেশী নার্গিস আক্তার (৪২), তার ১২ বছর বয়সী ছেলে নিরব এবং নিরবের বড় ভাইয়ের শাশুড়ি দোলা বেগম (৪৫)। নিহত নার্গিস আক্তার ওই গ্রামের হামিদুজ্জামানের স্ত্রী। সবাই একে অপরের আত্মীয় এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ করতেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথে ধলাটেংগর এলাকায় বাসের জ্বালানি তেল শেষ হয়ে গেলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে তারা গল্পে মগ্ন ছিলেন। ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন এলাকা অতিক্রম করছিল। রেললাইনে বসে থাকা অবস্থায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ তিন নারী ও দুই পুরুষের প্রাণ হারায়।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, মৃতরা সবাই দরিদ্র পরিবারের সদস্য ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন, কিন্তু এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাদের চিরতরে স্তব্ধ করে দিল।

পরিবারের সদস্যরা হারিয়ে দিশেহারা, প্রতিবেশীরাও সান্ত্বনা দিতে পারছেন না। ঘাতক ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে একই গ্রামের পাঁচটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় স্কুল, মসজিদ ও বাজারে মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই রেললাইনে বসেছিলেন। এ দুর্ঘটনা গ্রামে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রেল বিভাগকে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।

নিহতদের পরিবারগুলো এখন মানসিক ও আর্থিক সাহায্যের জন্য আশ্রয় খুঁজছে। স্থানীয় সমাজসেবা কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সহায়তা প্রদানের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার পরে পুরো এলাকা দুঃখ ও মর্মাহত জনতার পদচারণায় মুখরিত।

নিহতদের স্মরণে গ্রামের মানুষেরা মোমবাতি জ্বালিয়ে ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছেন। দুর্ঘটনার ঘটনায় সামাজিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর