ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কেন্দুয়ায় পেট্রোল সংকট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:২২ পিএম

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

সারাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলাতেও পেট্রোল সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। কেন্দুয়া পৌরসভার সাউদপাড়া এলাকায় অবস্থিত একমাত্র হিমালয় ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে শত শত চালককে।

স্টেশনটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ঈদের পর দ্বিতীয়বারের মতো ২৮ মার্চ সকাল ৯টা থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পেট্রোল বিতরণ শুরু হয়েছে। সংকটের কারণে সবার মধ্যে সমতা বজায় রাখতে প্রতিটি মোটরসাইকেলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে করে যত বেশি সম্ভব চালককে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ডিজেল সরবরাহ আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি ছুটির দিনেও যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় একগাড়ি পেট্রোল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

অন্যদিকে, ভোগান্তিতে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই জানান, সকাল থেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জরুরি কাজ থাকলেও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। একজন চালক বলেন, “আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। এখন তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টকর।”

এ পরিস্থিতিতে স্টেশন কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রত্যেককে তার প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি যেন পাম্প থেকে অতিরিক্ত তেল নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনভোগান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও পরিবহন নির্ভর পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে।

 আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর