ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ইঞ্জিনের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৬:৩১ পিএম

নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির একটি রকেট ইঞ্জিনের সফল ‘গ্রাউন্ড টেস্ট’ সম্পন্ন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরীক্ষাটি স্বয়ং উপস্থিত থেকে তদারকি করেছেন দেশটির নেতা Kim Jong Un। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকায়নের অংশ।

বার্তা সংস্থা এএফপি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্নয়নে কঠিন-জ্বালানিযুক্ত (Solid-fuel) রকেট ইঞ্জিন ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না, বরং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়। ফলে শত্রুপক্ষের জন্য আগাম শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

কেসিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রাউন্ড জেট টেস্টে আধুনিক ‘কম্পোজিট কার্বন ফাইবার’ উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রকেট ইঞ্জিনের ওজন কমানো এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। পরীক্ষায় ইঞ্জিনটির সর্বোচ্চ থ্রাস্ট বা উৎক্ষেপণ শক্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কিলোটন, যা অত্যন্ত শক্তিশালী বলে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রাউন্ড টেস্ট মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে রকেট ইঞ্জিন ও জ্বালানি স্থির অবস্থায় রেখে তার কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ইঞ্জিনের শক্তি, স্থায়িত্ব, তাপমাত্রা সহনশীলতা এবং জ্বালানির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। সফল গ্রাউন্ড টেস্ট ভবিষ্যতে বাস্তব উৎক্ষেপণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষাটি ঠিক কবে এবং কোথায় পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এই পরীক্ষার প্রকৃত মাত্রা ও উদ্দেশ্য নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে Kim Jong Un তার দেশকে একটি অপরাজেয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।

তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বজুড়ে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন। চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই সাম্প্রতিক সামরিক পরীক্ষা ও কার্যক্রম মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং বিশেষ করে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। এটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও কাজ করতে পারে, যেখানে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আলোচনায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, কঠিন-জ্বালানিযুক্ত আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জন উত্তর কোরিয়ার জন্য একটি বড় অগ্রগতি। কারণ তরল জ্বালানির তুলনায় কঠিন জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্র অনেক দ্রুত প্রস্তুত করা যায় এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করাও সহজ। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হয়।

এই ধরনের প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার ওপর গভীর নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো উত্তর কোরিয়ার সামরিক কার্যক্রম নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। নতুন এই পরীক্ষার পর সেই উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে আইসিবিএম প্রযুক্তির উন্নয়ন বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, উত্তর কোরিয়ার এই নতুন রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষা শুধু একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর প্রতি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর