দীর্ঘ বিরতির পর টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরেই রেকর্ড গড়লেন Virat Kohli। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি থেকে ২০২৪ সালে অবসর নেওয়ার পর তিনি আইপিএল ছাড়া অন্য কোনো লিগে খেলেননি। গত বছরের জুনে আইপিএল ফাইনালের পর প্রায় ১০ মাস পর আবারও টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। আর ফিরেই দেখালেন, ফরম্যাট বদলালেও তাঁর ব্যাটিংয়ের ধার একটুও কমেনি।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন কোহলি। তাঁর এই ইনিংসে ছিল নিখুঁত টাইমিং, পরিমিত আক্রমণ এবং অভিজ্ঞতার ছাপ। তাঁর ৬৪তম ফিফটির সুবাদে ২০২ রানের বড় লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে জয় পায় Royal Challengers Bengaluru। দলটি ২৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে, যা ম্যাচটিকে একপেশে করে তোলে।
প্রায় ১০ মাস টি–টোয়েন্টি থেকে দূরে থাকার পর মাঠে ফিরে বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কোহলি বলেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সব সময় ব্যস্ত সূচির মধ্যে খেলেছেন। ফলে বিশ্রামের সুযোগ খুব একটা পাননি। এই বিরতিগুলো তাঁর জন্য ইতিবাচক হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “গত ১৫ বছরে আমাদের সূচি এতটাই ব্যস্ত ছিল যে, প্রস্তুতির ঘাটতির চেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি সব সময় বেশি ছিল। এই বিরতিগুলো আমাকে সতেজ রেখেছে। আমি যখনই খেলায় ফিরি, তখন ১২০ শতাংশ শক্তি নিয়েই ফিরি।”
এই ম্যাচটি কোহলির জন্য ছিল একাধিক দিক থেকে স্মরণীয়। আইপিএলের ইতিহাসে তিনি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৯টি আসরেই অংশ নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। লিগটির শুরু থেকেই একই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলা এবং ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাওয়া—এই অর্জন তাঁকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
শুধু অংশগ্রহণেই নয়, ব্যাটিংয়েও নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। এই ম্যাচে ফিফটি করার পথে আইপিএলে রান তাড়া করতে গিয়ে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কোহলি। আইপিএলের ইতিহাসে রান তাড়ায় চার হাজার রান করা প্রথম ক্রিকেটার এখন তিনি। চাপের ম্যাচে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এই বিশেষ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে আইপিএলে কোহলির মোট রান এখন ৮৭৩০, যা এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকতা, ফিটনেস এবং পারফরম্যান্স—এই তিনের সমন্বয়েই তিনি এই রেকর্ড গড়েছেন। তাঁর ব্যাটে এখনও সেই আগ্রাসন, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিস্থিতি বুঝে খেলার দক্ষতা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
যদিও টি–টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন, তবুও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি দূরে যাননি কোহলি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের হয়ে ওয়ানডে সিরিজে অংশ নিয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ৯৩, ২৩ ও ১২৪ রান করেন, যা সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের আসন এনে দেয় তাঁকে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ওয়ানডে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৩০২ রান করে ছিলেন দলের সেরা পারফরমার।
অর্থাৎ, ম্যাচ অনুশীলনের বাইরে থাকলেও ব্যাট হাতে ছন্দে রয়েছেন কোহলি। তাঁর পারফরম্যান্সে কোনো ধরনের জড়তা দেখা যায়নি। বরং আগের মতোই আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন তিনি।
রান তাড়ায় কোহলির দক্ষতা নিয়ে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক Rajat Patidar। তিনি বলেন, “বিরাট কোহলি আমাদের ১ নম্বর রানতাড়ার মাস্টার। তিনি যেভাবে খেলেন, যেভাবে শট নির্বাচন করেন এবং পরিস্থিতি বোঝেন, তা অসাধারণ। ডাগআউট থেকে তাঁর ব্যাটিং দেখা সত্যিই উপভোগ্য।”
পতিদার আরও জানান, অনুশীলনেও কোহলির মধ্যে একই রকম আগ্রহ ও তীব্রতা দেখা গেছে। তাঁর মতে, কোহলি এখন নিজের সেরা ছন্দেই রয়েছেন এবং মাঠে তাঁর আত্মবিশ্বাস দলকে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে।
এই ম্যাচের মাধ্যমে নতুন মৌসুমে দারুণ সূচনা করল বেঙ্গালুরু। দলের জয়ে কোহলির অবদান ছিল সবচেয়ে বড়। তাঁর ইনিংস শুধু দলকে জয় এনে দেয়নি, বরং প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপও তৈরি করেছে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, দীর্ঘ বিরতির পরও কোহলির ফিটনেস, ফর্ম এবং মানসিক দৃঢ়তা একটুও কমেনি। বরং নতুন উদ্যমে তিনি আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আইপিএলের এই মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স কেমন হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আকাশজমিন / আরআর