উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 61
রাজশাহীতে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও পাচার রোধে ফিলিং স্টেশন ও তেলের ডিপোগুলোতে নজরদারি শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার থেকে এই তৎপরতা শুরু করেছে রাজশাহীর ১ ব্যাটালিয়ন।
জেলায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার তিনটি অয়েল ডিপো রয়েছে। এছাড়া জেলায় মোট ১২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এই সব স্থানে বিজিবি নজরদারি শুরু করেছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা পদ্মার চরেও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে ভারত সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার না হয়।
রোববার বেলা ১১টায় নগরের শিরোইলে ডিপো এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজিবির রাজশাহীর ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার। তিনি জানান, বিজিবিকে ডিপোগুলোকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনটি ডিপোতে তিনটি প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ডিপোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখা।
তিনি আরও জানান, জেলায় ১২টি ফিলিং স্টেশনেও নজরদারি করা হচ্ছে। ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের দাম কম হওয়ায় অসাধু চক্র সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের চেষ্টা করছে। বিশ্বপরিস্থিতির প্রভাব এবং সংকটকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিজিবি সীমান্তেও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
রিয়াজ শাহরিয়ার আরও বলেন, “এই সময়ে শুধু নজরদারি নয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এটি নিশ্চিত করবে যে, তেলের সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত হবে না এবং অনিয়ম বন্ধ থাকবে।”
নজরদারি কার্যক্রমে তেলের মজুত, ডিপোতে নিরাপত্তা এবং ফিলিং স্টেশনগুলোর তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া, সন্দেহজনক লেনদেন বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজিবি জেলায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই নজরদারি কার্যক্রমের মাধ্যমে তেলের অনিয়ম ও সীমান্ত পাচার কমবে। তারা আশা করছেন, বিজিবি এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জেলায় তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হবে।