আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরান এবং পাশের আলবোর্জ প্রদেশে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল, তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান সরকার। দেশটির উপ-জ্বালানি মন্ত্রী মোস্তফা রজবি মাশহাদি বলেছেন, বর্তমানে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি স্থিতিশীল রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।
রোববার রাতে সংঘটিত হামলার পর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপমন্ত্রী মোস্তফা রজবি মাশহাদি বলেন, হামলার পর তেহরান এবং কারাজ শহরসহ আলবোর্জ প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়।
মোস্তফা রজবি মাশহাদি আরও জানান, হামলার কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন উপকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড এখন স্থিতিশীলভাবে কাজ করছে।
তবে হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে তিনি শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ছিটকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো আলবোর্জ প্রদেশের একটি উচ্চ-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ টাওয়ারে আঘাত হানে। একই সঙ্গে ‘দুশান তাপে’ নামের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ঘটনার ফলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে তেহরান ও কারাজ শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
তবে ইরানের বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয়। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত টাওয়ার ও উপকেন্দ্র মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। বিদ্যুৎ প্রকৌশলীরা সারারাত কাজ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের অন্যান্য অংশ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বিন্যাস করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়।
ইরান সরকার বলছে, দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি বাড়ানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল স্থাপনা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা বাড়ছে।
এ অবস্থায় ইরান সরকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা