দক্ষিণ লেবাননে সংঘটিত তিনটি পৃথক ঘটনায় ইসরায়েলের ছয়জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর হামলা ও একটি সামরিক দুর্ঘটনার কারণে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে সংঘটিত একটি হামলায় দুইজন সেনা ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত হন। এই হামলাটি সীমান্তের কাছাকাছি একটি এলাকায় ঘটে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী টহল দিচ্ছিল। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সেনারা গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অন্য একটি ঘটনায় ড্রোন হামলায় আরও তিনজন ইসরায়েলি সেনা আহত হন। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এই ড্রোনটি সীমান্ত পার হয়ে এসে তাদের অবস্থানের ওপর হামলা চালায়। বিস্ফোরণের ফলে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সেনাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হন।
এ ছাড়া একই সময়ে আরেকটি পৃথক ঘটনায় এক ইসরায়েলি সেনা সামরিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হন। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বেশ গুরুতর এবং তাঁদের নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য আহত সেনাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবানন এলাকায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি ও হামলার ঘটনা ঘটছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, গাজা যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাঝেমধ্যে রকেট হামলা, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটে থাকে। এসব ঘটনার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে উভয় পক্ষই নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং যেকোনো ধরনের হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যদি সংঘাত আরও বাড়ে, তাহলে তা বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা