আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাডিসন কার্টরাইটের মতে, অন্তত জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশ্লেষক কার্টরাইট সতর্ক করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারবেন না।
কার্টরাইট জানান, ট্রাম্পের আগের বাণিজ্য নীতির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এখানে শেষ মুহূর্তে পিছু হটবেন এমন আশা রাখা ঠিক হবে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শুল্ক নীতি নির্ধারণ করা প্রেসিডেন্টের বিশেষ অধিকার হলেও, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে কখন এবং কীভাবে সমাধান হবে, তা একতরফাভাবে ঠিক করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষক কার্টরাইট আরও উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জটিলতা কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এতে ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বিভিন্ন স্তরের প্রভাব রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলে তেল সরবরাহ, অর্থনৈতিক বাজার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সবই প্রভাবিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং এর পরিণতি নির্ধারণ একতরফা সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। এটি কূটনৈতিক আলোচনার, আন্তর্জাতিক চাপে এবং প্রতিটি পক্ষের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে।”
বিশ্লেষক হুঁশিয়ার করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যত দ্রুতই যদি চায়, তবুও তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে নিজেকে একতরফাভাবে সরাতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধ কেবল এক দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না; এটি একটি বহুপক্ষীয় সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর অবস্থা এবং কূটনৈতিক চাপ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।”
কার্টরাইটের মত অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের দীর্ঘায়িত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলা সম্ভাবনা রয়েছে। তেল সরবরাহে বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ এবং স্থিতিশীলতার অভাবের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা বা কূটনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা এবং সংঘাতের ঝুঁকি বজায় থাকবে। এর প্রভাবে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুনভাবে শক্তির পুনর্বিন্যাস ঘটতে পারে।
কার্টরাইটের সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের দীর্ঘায়িত হওয়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি মনিটর করতে হবে এবং বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে।”
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আকাশজমিন / আরআর