ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

আইসিইউ থেকে ছাড়পত্র, ফের আইসিইউতে হামে আক্রান্ত শিশু


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:২৯ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে শিশুদের আইসিইউ সংকটের মধ্যে হামে আক্রান্ত এক শিশুকে আইসিইউ থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর আবার গুরুতর অবস্থায় পুনরায় আইসিইউতে নিতে হয়েছে। এ ঘটনা হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট ও চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপের চিত্র স্পষ্ট করে তুলেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এই সীমিত সংখ্যক বেডের জন্য প্রতিনিয়ত অপেক্ষায় থাকতে হয় অসংখ্য নবজাতক ও গুরুতর অসুস্থ শিশুকে। কোনো রোগী মারা গেলে বা কিছুটা সুস্থ হয়ে আইসিইউ ছাড়লে তবেই নতুন রোগীকে সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে সিরিয়াল দিয়ে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ মেলে।

বর্তমানে শিশুদের সাধারণ রোগের পাশাপাশি হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে আইসিইউর চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার হামে আক্রান্ত চার শিশুকে আইসিইউতে ভর্তির জন্য সুপারিশ করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক। কিন্তু আইসিইউ বেডের সংকটের কারণে তাদের দ্রুত ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে শিশু ফারহানা ও হুমায়রা শুক্রবার সকাল হওয়ার আগেই মারা যায়। একই দিন রাতে মারা যায় হিয়া নামের আরেক শিশু।

এই চার শিশুর মধ্যে বেঁচে থাকা জান্নাতুল মাওয়াকে গত শনিবার বিকেলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার আবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

পরিস্থিতির অবনতি হলে ওয়ার্ডের চিকিৎসক পুনরায় তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সে সময় আইসিইউতে তার সিরিয়াল পড়ে ৩৬। এর আগে প্রথমবার আইসিইউতে নেওয়ার সময় তার সিরিয়াল ছিল ২৯, যা পার হতে তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পুনরায় এত দীর্ঘ অপেক্ষার কথা শুনে তার বাবা-মা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

তবে শেষ পর্যন্ত তাদের আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। রোগীর অবস্থার অবনতি বিবেচনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জান্নাতুল মাওয়াকে আবার আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে যেকোনো সময় রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইসিইউতে পুনরায় ভর্তি করা হয়। জান্নাতুল মাওয়ার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের এই পরিস্থিতি শিশুদের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও আইসিইউ বেড সংকটের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর