মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনার জটিল পরিস্থিতিতে ইরান ও ইসরায়েলের ভূমিকা গুরুত্ব বহন করছে। ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, ‘শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে, গোপনে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে।’ গালিবাফ আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন সৈন্যদের স্থলপথে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে এবং তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। পরিস্থিতি যুদ্ধের একমাস পরও অস্থিতিশীল। সিএনএনের প্রধান কূটনৈতিক প্রতিবেদক ম্যাথিউ চ্যান্স উল্লেখ করেছেন, মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র থাকা সত্ত্বেও স্থল অভিযান দ্রুত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জ্বালানিসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইতিমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ভুগেছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
গালিবাফ জানিয়েছেন, ইরানে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে হামলা আরও জোরদার হবে এবং আঞ্চলিক সহযোগীদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। বিশেষত, জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বের জ্বালানি বাজার অস্থির। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের যুদ্ধভূমিতে যোগদান বাব এল-মান্দেব জলপথেও শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার মধ্যেই ইসরায়েল দীর্ঘায়িত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আলজাজিরার এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, তেল আবিব বিভিন্ন দেশের ওপর তাদের সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে। কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, ইসরায়েল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৭১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট তৈরি করেছে, যা একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালানোর ইঙ্গিত বহন করে।
এলমাসরি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বছরে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা প্রদান করে এবং যুদ্ধকালে এই সহায়তা আরও বৃদ্ধি পায়। বাজেট অনুযায়ী, ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর কাছাকাছি বা মধ্যবর্তী অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইরান পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ বা ধারাবাহিক কয়েকটি যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।