নওগাঁর বদলগাছি উপজেলায় অবৈধভাবে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ভান্ডারপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে স্থানীয় এক চক্র।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার সুবল ও সুনীলের পুকুর কাটার দায়িত্ব নেন একই এলাকার মিটু হোসেন, যিনি “ফেন্সি মিঠু” নামে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে দিন-রাত পুকুর খনন করে সেই মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন।
স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন যে, পুকুরপাড়ে অবস্থিত একটি কালী মন্দির মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় পুকুরের পাড় ধসে পড়ে মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে, যার কারণে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।
অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের ফলে এলাকার সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলাচলের সময় ট্রাক থেকে রাস্তায় মাটি পড়ে ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে, আর বৃষ্টির সময়ে তা কাদায় পরিণত হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রশাসনের কিছু লোক ঘটনাস্থলে এসে ফেন্সি মিঠুর সঙ্গে কথা বললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কয়েকজন সাংবাদিকও ঘটনাটি পরিদর্শন করেছেন, তবু পুকুর খনন কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ফেন্সি মিঠু ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচটি পুকুর খননের দায়িত্ব নিয়েছেন, যেখানে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বদলগাছি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়ে অবৈধ খনন বন্ধ করবে এবং মন্দির ও এলাকার সড়ককে বিপদমুক্ত করবে।