আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গত সোমবার ইরান যুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে জ্বালানি তেলবোঝাই একটি বিশাল কুয়েতি জাহাজে হামলা চালায়। হামলার ফলে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং এতে মূল কাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাটি ড্রোনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এই হামলা ঘটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলের খনিগুলো ধ্বংস করবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা ঘটছে। ‘আল-সালমি’ নামের কুয়েতি জাহাজে এই হামলা সেই উত্তেজনার সাম্প্রতিক উদাহরণ। মাসব্যাপী চলা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, আল-সালমি জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় হামলার শিকার হয়। জাহাজটির মালিক কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) সতর্ক করেছে, ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দুবাই নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল ড্রোন হামলার আগুন সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং জাহাজের ২৪ জন ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন। হামলার খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। আক্রান্ত জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে, যার বাজারমূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও তিনি যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী, সামরিক পদক্ষেপ এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।
দুবাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত ও জ্বালানি সঙ্কট বিশ্ববাজারে তেলের দামের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলও সীমিত হচ্ছে।