ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

ভাইরাল তাইজুলের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা: চরের মানুষের উন্নয়নই একমাত্র চাওয়া


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৬:০৫ পিএম

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তবতা, সংগ্রাম আর অবহেলার গল্প অনেক সময়ই মূলধারার আলোচনায় উঠে আসে না। ঠিক তেমনই এক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন ‘ভাইরাল তাইজুল’ নামে পরিচিত এক তরুণ, যার একটি আবেগঘন বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তার ভাষায়, “আমার ৮ জনের সংসার। বাবা-মা অসুস্থ, দুজনই শ্রবণ প্রতিবন্ধী। ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের হেল্পার হিসেবে কাজ করি।” এই কয়েকটি বাক্যেই ফুটে ওঠে তার জীবনের কঠিন বাস্তবতা। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে প্রতিদিনই তাকে সংগ্রাম করতে হয়।

তিনি জানান, জীবনের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা ভুলে থাকার জন্যই ভিডিও তৈরি করেন। তবে এই ভিডিও তৈরির পেছনে শুধু বিনোদন নয়, রয়েছে একটি বড় উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “আমি কোনো সাংবাদিক না—শুধু আমাদের এলাকার কথা মানুষকে জানাতে চাই।”

কুড়িগ্রামের নারায়ণপুরের মতো চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা এখনও অনেক পিছিয়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা—সবকিছুতেই রয়েছে সীমাবদ্ধতা। তাইজুলের অভিযোগ, এইসব এলাকার খবর খুব একটা প্রচারমাধ্যমে আসে না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আপনারা সাংবাদিকরা নারায়ণপুরে আসেন না, আমাদের এলাকার নিউজ করেন না। আপনাদের এখানে আনার জন্যই আমি ভিডিও করি।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি নিজ উদ্যোগেই নিজের এলাকার মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

নিজের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করেছেন তিনি। সরলভাবে বলেন, “আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে।” সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে ট্রোল বা সমালোচনা হলেও তা নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। বরং তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন।

“আপনারা আমাকে ট্রোল করেন—তাতে আমার কষ্ট নেই,”—এই কথার মধ্য দিয়ে তার সহনশীলতা ও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

সবশেষে তিনি যে কথাটি বলেছেন, সেটিই তার মূল বার্তা—“আমার একটাই চাওয়া—চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।” এই একটি বাক্যই তার সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং লক্ষ্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন ব্যক্তিগত উদ্যোগ অনেক সময় বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে সামাজিক মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, আর তাইজুলের মতো মানুষ সেই পরিবর্তনেরই অংশ।

চরাঞ্চলের উন্নয়ন, অবহেলিত মানুষের অধিকার এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য প্রয়োজন আরও মনোযোগ ও উদ্যোগ। ভাইরাল তাইজুলের এই বার্তা সেই প্রয়োজনীয়তার দিকেই নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর