ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যেসব দেশ এই যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকার করেছে, তাদের উচিত কিছু সাহস সঞ্চয় করে হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে নিজেদের তেল সংগ্রহ করা। যুক্তরাষ্ট্র আর সেখানে তোমাদের সাহায্য করবে না, ঠিক যেমন তোমরা আমাদের জন্য সহায়তা করোনি। ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ শেষ। নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করো।”
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। গত এক মাস ধরে চলা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের কারণে এই প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য তেল আমদানির ওপর নির্ভর দেশগুলোতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশ এই সংঘাতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না হলেও তেলের সংকটের কবলে পড়েছে। তেল আমদানিকারক দেশগুলো এখন নিজস্ব সমাধান খুঁজে নিতে বাধ্য।
বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান ঝুঁকির কারণে নিরাপদ ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেসব দেশ তাদের শক্তিশালী অর্থনীতি বজায় রাখতে চায়, তাদেরকে এখন নিজেদের শক্তি এবং কৌশল ব্যবহার করে তেল সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সরাসরি পদক্ষেপের অনুপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সামনে তুলে এনেছে। হরমুজ প্রণালিতে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, সেটি বিশ্বের জ্বালানি বাজারে সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সামরিক বা রাজনৈতিক সংঘাত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।